দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইরানের সঙ্গে সংঘাত অব্যাহত থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত আরও দ্রুত কমে যেতে পারে, যা ভবিষ্যতে চীন বা উত্তর কোরিয়ার মতো প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতাকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে বলে সতর্ক করেছেন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকেরা।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতোমধ্যে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ‘শেষ’ বলে মন্তব্য করেছেন। এর মধ্যেই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান হারে হামলা চলতে থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভান্ডারের ওপর চাপ আরও বাড়বে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক থিংকট্যাঙ্ক সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (CSIS)-এর প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও অবসরপ্রাপ্ত মেরিন কর্নেল মার্ক ক্যানসিয়ানের মতে, সংঘাত আরও কয়েকদিন একই তীব্রতায় চললে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুত এমন পর্যায়ে নেমে যেতে পারে, যা বিশেষ করে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সামরিক ঝুঁকি বাড়াবে।
বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্র দূরপাল্লার হামলা ও আকাশ প্রতিরক্ষায় ব্যবহৃত হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের গবেষক মাইকেল ও’হ্যানলন বলেন, অস্ত্রের মজুত এখন কাঙ্ক্ষিত মাত্রার চেয়ে কম।
CSIS-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এপ্রিল পর্যন্ত সংঘাত চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র তাদের থাড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অন্তত অর্ধেক, প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় অর্ধেক এবং টোমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় ৩০ শতাংশ ব্যবহার করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এসব অস্ত্রের উৎপাদন ও মজুত পুনর্গঠনের গতি ধীর। বর্তমানে প্রতি মাসে প্রায় ১৫টি টমাহক ও ২০টি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ পাচ্ছে পেন্টাগন। ২০২৬ সালে THAAD ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের কোনো পরিকল্পনা নেই। ফলে যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় ফিরতে তিন বছর বা তারও বেশি সময় লাগতে পারে।
অন্যদিকে, পেন্টাগন জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা শিল্পের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে কাজ চলছে। ট্রাম্প প্রশাসন ডিফেন্স প্রোডাকশন অ্যাক্ট ব্যবহার করে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন দ্রুততর করার উদ্যোগ নিয়েছে এবং নতুন উৎপাদন চুক্তিও করেছে।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব উদ্যোগের সুফল পেতে সময় লাগবে। জার্মানি ও ইউক্রেনের মতো দেশকে স্থানীয়ভাবে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের অনুমতি দেওয়া হলেও উৎপাদন সক্ষমতা গড়ে তুলতে কয়েক বছর সময় প্রয়োজন।
তবে পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পারনেল দাবি করেছেন, বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় সক্ষমতা ও অস্ত্রভান্ডার এখনো রয়েছে এবং প্রেসিডেন্টের নির্দেশে যেকোনো সময় প্রয়োজনীয় সামরিক অভিযান পরিচালনায় তারা প্রস্তুত।
সূত্র: সিএনএন
এমএস/